শিরোনাম :
Home / বদলগাছী / দূর্নীতি : বদলগাছীর কোলহাট ইজারা দেয়া হয়েছে দরপত্রের চেয়ে কম টাকায়<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

দূর্নীতি : বদলগাছীর কোলহাট ইজারা দেয়া হয়েছে দরপত্রের চেয়ে কম টাকায়<<মহাদেবপুর দর্পণ>>

Spread the love

মহাদেবপুর দর্পণ, কিউ, এম, সাঈদ টিটো, নওগাঁ, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ :

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাট হচ্ছে কোলাহাট। এই হাট-বাজার ব্যবস্থপনা কমিটির বিরুদ্ধে দরপত্রে দাখিল করা দরের চেয়ে অনেক কম টাকায় ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম হওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেননি। তিনি বলছেন, কোলা হাট-বাজার ইজারায় ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। দরপত্রে দেওয়া দরের চেয়ে অনেক কম টাকা নিয়ে হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে। একারণে হাট-বাজার ইজারার মূল্যয়ন কমিটির রেজুলেশনে তিনি স্বাক্ষর করেননি। উপজেলা হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দাবি নীতিমালার আলোকে কোলা হাট-বাজার ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইজারায় কোনো অনিয়ম করা হয়নি।

নিয়মানুযায়ী প্রতি বছর বৈশাখ মাসে হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়। কোলা-হাট বাজারের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে হাট-বাজারের প্রশস্তকরণের জন্য বাংলা ১৪২৬ সালের কোলা হাট-বাজার ইজারাদার ফেরদৌস হোসেন বাদী হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (১২৯৭/২০২০) দায়ের করেছিলেন। আইনী জটিলতা থাকায় বাংলা ১৪২৭ সালে কোলা হাট-বাজার ইজারা দরপত্র আহবান করা হয়নি। প্রায় ১৪ মাস ধরে এই হাট-বাজারে খাস হাসিল আদায় করা হয়েছে। সেই হাট থেকে লাখ লাখ টাকা খাস আদায় করে নামমাত্র সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী ভূমি অফিসের লোকজনের সরকারি খাস হাসিল আদায় করার কথা ছিল। কিন্তু সাবেক ইজারাদারের লোকজনদের সরকারি খাস হাসিল আদায়ে নিযুক্ত রেখে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর হাইকোর্টের রিটের বাদি ফেরদৌস হোসেনকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে রিট নিষ্পত্তির আবেদনে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন বলে জানিয়েছেন। গত ২৯ জুলাই দৈনিক আজকালের খবর ও বগুড়ার দৈনিক উত্তরকোণ পত্রিকায় কোলা হাট-বাজার ইজারাদার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেন ইউএনও আলপনা ইয়াসমীন।

পত্রিকায় প্রকাশিত কোলা হাট-বাজার ইজারাদার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বর্ণিত হাট-বাজারসমূহ বাংলা ১৪২৮ সনের ‘অবশিষ্ট’ সময়ের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে দরপত্র সিডিউলে বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে প্রতিটি হাট-বাজারের জন্য পৃথক-পৃথকভাবে সিলমোহরযুক্ত খামে হাট-বাজারের নাম উল্লেখপূর্বক ক্যালেন্ডারে সময়সূচি মোতাবেক দরপত্র আহবান করা যাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে হাট-বাজার ইজারা সংক্রান্ত তফসিলের কলামে ১৪২৮ সালের সরকারি ইজারা মূল্য ৫৪ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৬টাকা ও মন্তব্যের কলামে বর্ণিত হাট-বাজার ইজারার বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন ১২৯৭/২০২০ নং রিটপিটিশন মামলার বাদি কর্তৃক অভিযোগটির নিষ্পত্তির আবেদন পাওয়ায় রিটের আদেশ অনুসারে ইজারা বিজ্ঞপ্তি জারী করা হলো।

গত ১৬ আগস্ট দরপত্র বিক্রির শেষ দিন ছিল। পরদিন দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন দুপুর দেড়টায় দরপত্র খোলা হয়। বাংলা ১৪২৮ সালের অবশিষ্ট সময়ের জন্য কোলা হাট-বাজার ইজারায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার পাতনা গ্রামের মো. এনামুল হক, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন ও নওগাঁ সদর উপজেলার আতিকুজ্জামান আলী পৃথক দরপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে মো. এনামুল হক সর্বোচ্চ দরদাতা। তিনি দরপেত্রে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৭১১ টাকা দর দিয়েছেন। দ্বিতীয় দরদাতা সাজ্জাদ হোসেন ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭০০ টাকা দর দিয়েছেন। অতিকুজ্জামান আলী সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে ৩৬ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা দরপত্রে মূল্য দিয়েছিলেন।

অভিযোগ করা হয়েছে যে, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মো. এনামুলক হকের কাছ থেকে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৭১১ টাকার পরিবর্তে ৪৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৬ টাকা নিয়ে তাকে কোলা হাট-বাজার ইজারাদার হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইজারাদার হাট-বাজারের হাসিল আদায় করছেন।

দ্বিতীয় দরদাতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমি পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অবশিষ্ট সময়ে জন্য অর্থাৎ আট মাসের জন্য ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭০০ টাকা দর দিয়েছিলাম। আমার চেয়ে মো. এনামুল হকের দর অনেক বেশি থাকায় নিয়মানুযায়ী তাকেই হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে মো. এনামুল হকের কাছ থেকে ৪৬ লাখ টাকা ৬৩ হাজার ৬৯৬ টাকায় হাট-বাজারটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। যোগসাজশ করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।’

হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলার বাদি ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘আমি বাংলা ১৪২৬ সালে কোলা হাট-বাজারের ইজারাদার ছিলাম। তখন কোলা হাট-বাজারের জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। হাট-বাজারের জায়গা কমে যাওয়ায় কোলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠের জায়গায় হাট-বাজার লাগাতে হতো। এতে ইজারাদারকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হতো। হাট-বাজারের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ইউএনওসহ প্রশাসনের কাছে আমি বহুবার অভিযোগ করেও কোন সুফল পাইনি। পরে হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘রিট পিটিশন মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় ঈদুল আজহার পর ইউএনও আমাকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে রিট পিটিশন মামলার নিষ্পত্তির জন্য একটি লিখিত কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেন। আমি চাপের মুখে স্বাক্ষর দিয়েছি।’

বদলগাছী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম খাঁন বলেন, ‘কোলা হাট-বাজার ইজারাদার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল ‘অবশিষ্ট’ সময়ে জন্য ইজারা দেওয়া হবে। আর সেই ইজারায় ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৭১১ টাকা সর্বোচ্চ দর ছিল। সিডিউলে দেওয়া দরের চেয়ে একটি টাকাও কম নেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। কিন্তু সিডিউলে দেওয়া দরের চেয়ে অনেক কম টাকায় হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে। এটা চরম অনিয়ম বলে মনে করছি। একারণে হাট-বাজার ইজারার দরপত্রে মূল্যয়ন কমিটির রেজুলেশনে আমি স্বাক্ষর করিনি। আর কখনো করবও না। এই জন্য আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলা হাট-বাজার ব্যবস্থপনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলপনা ইয়াসমীন বলেন, ‘১৭ আগস্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক খাস হাসিল আদায়ের সময় বাদ দিয়ে আনুপাতিক হারে ইজারার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালার আলোকে হাট-বাজারটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।’#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*